দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আগামী মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’। প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে-বিদেশে ভ্রমণ, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষমতায়ন, প্রণোদনা প্রদান এবং আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আনতেই এ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাসম্পন্ন এই কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সেবাও গ্রহণ করা যাবে।
তিনি আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড।
প্রবাসী কার্ডে যে ১০টি বিশেষ সুবিধা মিলবে
- দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে দ্রুত সেবা।
- আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা।
- বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।
- দেশে-বিদেশে গাড়ি বুকিংয়ে সুবিধা এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সেবা।
- সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় বিশেষ ছাড়।
- কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার সুবিধা।
- প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন, বীমা সুবিধা এবং বিভিন্ন সরকারি সহায়তা।
- জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার।
- রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজে অর্থ লেনদেন।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা এবং অন্যান্য সরকারি ও ব্যাংকিং সেবায় অগ্রাধিকার।
উপ-প্রেস সচিব জানান, আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ডের উদ্বোধন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংক এ কার্ড ইস্যু করবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসী কার্ডের সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যেন পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









