টানা তিন দিনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমল ১৭ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন অব্যাহত রয়েছে। চলমান সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার প্রভাবে টানা তিন দিনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে। এর ফলে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয় বেঞ্চমার্কের দামই দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬১ ডলার বা ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ০৬ ডলার বা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে এসেছে।

টানা তিন দিনের এই দরপতনের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উভয় বেঞ্চমার্কের দামই ১৩ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত নিম্নমুখী হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর আমদানি ব্যয় কমতে পারে। একই সঙ্গে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের জ্বালানি ব্যয়ও দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পেতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যহ্রাসের সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে, কারণ তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ নীতি, কর কাঠামো এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর।

বাংলাদেশও জ্বালানি তেলের বড় আমদানিকারক দেশ হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম কমার এ প্রবণতা ভবিষ্যতে আমদানি ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই এর প্রভাব নির্ভর করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর