ফুটবল কখনোই শুধু ৯০ মিনিটের লড়াই নয়। ইতিহাস, আবেগ, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জাতীয় গর্বের মিশেলে কিছু ম্যাচ হয়ে ওঠে বিশেষ। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালও তেমনই এক মহারণ। তাই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আয়োজকদের জন্য।
আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। দুই দলের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে পুরো শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আটলান্টা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ম্যাচকে ঘিরে অতীতের নানা ঘটনা এবং দুই দেশের সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ সচেতন। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের স্মৃতি এখনো দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে আলোচনার বিষয়। ফলে সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামে দুই দলের সমর্থকদের জন্য পৃথক গ্যালারির ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে পুরো স্টেডিয়ামে তাদের সম্পূর্ণ আলাদা রাখা কঠিন। এ কারণে স্টেডিয়ামের ভেতরের পাশাপাশি বাইরে, প্রবেশপথ, আশপাশের সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের কিছু সমর্থকের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত দর্শক ম্যাচটি দেখতে আটলান্টায় আসবেন। একই সঙ্গে ইংল্যান্ড থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত থাকবেন। ফলে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাজ্যের বিশেষ ফুটবল পুলিশিং ইউনিটের একটি দলও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। তারা আটলান্টা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আচরণ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক ছিল। আগের ম্যাচে প্রায় ৩০ হাজার ইংলিশ সমর্থক উপস্থিত থাকলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের বাড়তি আবেগ ও উত্তেজনার কারণে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না নিরাপত্তা বাহিনী।
আটলান্টা পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তারা। প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









