বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর ইনজুরি টাইমের গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন। একই সঙ্গে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারেরও সমাপ্তি ঘটেছে তিক্ত পরাজয়ে।
ডালাসের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে সোমবার অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিল ম্যাচ। তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে জয়সূচক গোল করেন বদলি মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো।
৭০ হাজার ৬৪৯ দর্শকে পরিপূর্ণ স্টেডিয়ামে কাগজে-কলমে হাইভোল্টেজ এই লড়াই বাস্তবে ছিল বেশ সতর্ক ও রক্ষণাত্মক। দুই দলই অপরাজিত অবস্থায় মাঠে নামলেও স্পেন ম্যাচজুড়ে বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে।
ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ডানি ওলমোর পাস থেকে মিকেল ওয়ারজাবাল গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে একা পেয়েও সুযোগ নষ্ট করেন। পরে লামিন ইয়ামাল ও অ্যালেক্স বায়েনার শটও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কস্তা।
অন্যদিকে পর্তুগালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে প্রথমার্ধের শেষদিকে। নুনো মেন্ডেসের শট স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে ক্রসবারে আঘাত করলেও গোল হয়নি।
পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পুরো ম্যাচেই ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। তার নেওয়া একটি শক্তিশালী শট স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন। ম্যাচের আগেই রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটিই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।
৫৬ মিনিটে চোট পেয়ে নুনো মেন্ডেস মাঠ ছাড়লে পর্তুগালের রক্ষণভাগে প্রভাব পড়ে। কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একাধিক পরিবর্তন আনলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি তার দল।
অন্যদিকে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত রক্ষণভাগের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এখনও পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি।
২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। আর ১৯৬৬ সালে তৃতীয় স্থান অর্জনই বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্য হয়েই রয়ে গেল।









