দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে আগামী সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। সফরকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এক সপ্তাহের এই সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বিশেষ করে তেল ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
বাগদাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রোববার দেশটির সরকারি মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এ বছর ট্রাম্পের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আল-জাইদি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেন, যখন ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এসব গোষ্ঠী অতীতে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক হামলা চালিয়েছে।
সরকারি মুখপাত্র জানান, বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে তেল ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। এ কারণে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগও সরকারের অগ্রাধিকার।
যদিও আল-জাইদি এসব গোষ্ঠীকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার অঙ্গীকার করেছেন, তবে প্রভাবশালী কয়েকটি গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখেও পড়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়া ইরাক বর্তমানে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিদেশি বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি তার দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।
দশকের পর দশক যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর পুনর্গঠনের পথে থাকা দেশটির সামনে এখনও দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক দুর্নীতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাক তেল খাতে কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক চুক্তি করেছে। ওয়াশিংটন সফরেও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির বিনিময়ে প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল একটি বিশেষ তহবিলে জমা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে আল-জাইদি সরকারের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরাকের তেল রাজস্বের নগদ অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। ২০০৩ সাল থেকে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে এ অর্থ পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার চাপের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে ওই অর্থ পাঠানো স্থগিত করেছিল।
সূত্র: বাসস/এএফপি









