টানা ভারী বর্ষণে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা এবার আরও প্রকট আকার ধারণ করায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর সরকারি উদ্যোগের অভাব এবং অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণেই বছরের পর বছর এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অতিবৃষ্টির পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুর উপচে পড়ায় মৎস্যচাষিদের লালিত মাছ ভেসে গেছে। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সবজিক্ষেত। কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদিত মৌসুমি সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।
এদিকে, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনেও দেখা দিয়েছে সংকট। পানি জমে থাকায় পশুপাখিকে নিরাপদ স্থানে রাখা এবং খাদ্যের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে খামারিরা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগরপুর, খেইশ্বর, উত্তর কালিকাপুর, খোদ্রশিমলা, চকসাদী, জালশুকা, পাঠানপাড়া, কুমার গাইলজানি, পাচান, দবিরগঞ্জ ও চৈত্রহাটিসহ অনেক গ্রাম জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। নিচু এলাকার সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অপরিকল্পিত ও যত্রতত্র পুকুর খননের কারণে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ করতোয়া নদীর একটি শাখা পুকুর খননের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষ বড় ধরনের খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন।
জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি









