আকাশপ্রেমী ও জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগীদের জন্য চলতি জুলাই মাস হতে যাচ্ছে বিশেষ আকর্ষণের। পুরো মাসজুড়ে আকাশে দেখা যাবে একের পর এক মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক ঘটনা। গ্রহ ও চাঁদের মিলন, ছায়াপথের উজ্জ্বল কেন্দ্র, পূর্ণিমার ‘বাক মুন’ এবং মাসের শেষদিকে উল্কাবৃষ্টি—সব মিলিয়ে রাতের আকাশ সাজবে অনন্য রূপে।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরু থেকেই মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের উজ্জ্বল কেন্দ্র খালি চোখেই তুলনামূলক স্পষ্ট দেখা যাবে। এছাড়া ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে একটি ধূমকেতু পর্যবেক্ষণেরও সুযোগ মিলতে পারে।
৭ ও ৮ জুলাই মধ্যরাতের পর পূর্ব আকাশে চাঁদ ও শনি গ্রহকে খুব কাছাকাছি দেখা যাবে। ভোরের আগে তাদের সঙ্গে যোগ দেবে মঙ্গল গ্রহ এবং ‘প্লিয়াডেস’ তারামণ্ডল, যা আকাশে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য তৈরি করবে।
১১ জুলাই ভোরে এক ফালি চাঁদ, মঙ্গল গ্রহ ও ‘প্লিয়াডেস’ মিলে আকাশে একটি ত্রিভুজাকৃতির বিন্যাস তৈরি করবে। দূরবীন ব্যবহার করলে এ দৃশ্য আরও স্পষ্টভাবে উপভোগ করা যাবে।
১৪ জুলাই অমাবস্যার রাতে চাঁদের আলো না থাকায় আকাশ থাকবে তুলনামূলক অন্ধকার। ফলে গভীর মহাকাশ, নক্ষত্রপুঞ্জ ও ছায়াপথ পর্যবেক্ষণের জন্য এটি হবে মাসের অন্যতম সেরা সময়।
১৭ জুলাই সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে এক ফালি চাঁদ ও শুক্র গ্রহকে পাশাপাশি দেখা যাবে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।
মাসের শেষদিকে, ২৯ জুলাই দেখা যাবে পূর্ণিমার চাঁদ, যা ‘বাক মুন’ নামে পরিচিত। ২৮ ও ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় চাঁদকে স্বাভাবিকের তুলনায় বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে। পুরুষ হরিণের নতুন শিং গজানোর মৌসুমকে কেন্দ্র করেই এই পূর্ণিমার নামকরণ করা হয়েছে।
এছাড়া জুলাইয়ের শেষ প্রহরে আকাশপ্রেমীদের জন্য থাকবে আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ। ৩০ ও ৩১ জুলাই ভোরের আগে আকাশে দেখা যাবে ‘সাউদার্ন ডেল্টা অ্যাকুয়ারিড’ উল্কাবৃষ্টি। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে খালি চোখেই একের পর এক উল্কাপাত উপভোগ করা যাবে।









