ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টানা এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী বছর তিনি আবারও সভাপতির পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান-এর লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তার নেতৃত্ব ও ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ফিফা। অথচ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, লাল কার্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই। ফিফা দীর্ঘ বিবৃতি দিলেও এই সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেনি।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনায় তার ভূমিকা ছিল। যদিও তিনি বলেন, তিনি শুধু পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন, ইনফান্তিনোকে কোনো নির্দেশ দেননি।
ফিফা অবশ্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সাবেক ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেন, যদি ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বদলে থাকে, তাহলে তা ফুটবলের জন্য উদ্বেগজনক এবং পুরো ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ফুটবলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে অতীতে বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে ফিফা নিষিদ্ধ করেছে। উদাহরণ হিসেবে গত আট বছরে তিনবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে পাকিস্তান। ফলে ট্রাম্প–ইনফান্তিনো ইস্যুতে একই নীতি প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।
এর আগে ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়াও সমালোচনার জন্ম দেয়। মানবাধিকার সংগঠন ফেয়ারস্কয়ার অভিযোগ করে, এই পুরস্কার ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও এ বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ২০৩০ ও ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক নির্বাচন, ক্লাব বিশ্বকাপ চালু, বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্যবৃদ্ধিসহ একাধিক সিদ্ধান্তেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনায় ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা একে “লাল রেখা” অতিক্রমের ঘটনা বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, এটি একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।
তবে বিতর্ক সত্ত্বেও ইনফান্তিনোর অবস্থান এখনো শক্তিশালী বলেই মনে করা হচ্ছে। ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে সভাপতি নির্বাচনে প্রয়োজন ১০৬ ভোট। দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি, আফ্রিকার ৫৪টি এবং এশিয়ার ৪৭টি সদস্য দেশ ইতোমধ্যে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচনে তাকে হারানো বা তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা কঠিন হবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।
সূত্র: বিবিসি বাংলা









