পল্লবীর মামলায় ফের গ্রেপ্তার রিজেন্ট সাহেদ

ডেস্ক রিপোর্ট

রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে (রিজেন্ট সাহেদ) আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট পল্লবী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি। তিনি জানান, পল্লবী থানার একটি মামলায় মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ প্রদান, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ।

২০২০ সালের ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পরীক্ষা ছাড়াই করোনা নেগেটিভ ও পজিটিভ সনদ প্রদান, জালিয়াতি এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রমাণ পায় র‌্যাব।

এর পরদিন ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা এবং মূল কার্যালয় সিলগালা করা হয়। একই দিন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান সাহেদ। পরে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন তিনি।

পরে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান মোহাম্মদ সাহেদ। তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।

তবে নতুন করে পল্লবী থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে সোমবার তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন তাকে আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted