বাজবলের ইতি, ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচের দায়িত্ব হারালেন ম্যাককালাম

স্পোর্টস ডেস্ক

একসময় আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের নতুন দর্শন হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ছিল ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’। জয়-পরাজয়ের হিসাবের চেয়ে সাহসী ও ইতিবাচক ক্রিকেটই ছিল এই দর্শনের মূলমন্ত্র। তবে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, মাঠের বাইরের বিতর্ক এবং নেতৃত্বের সংকটের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।

বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় ও টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার দুই সপ্তাহের মাথায় টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব হারিয়েছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) টানা হতাশাজনক পারফরম্যান্স ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তাকে টেস্ট দলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তবে তিনি ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।

এর আগে হঠাৎ করেই টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান বেন স্টোকস। তার বিদায়ের পর ম্যাককালামের দায়িত্ব হারানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো ইংল্যান্ড ক্রিকেটের বহুল আলোচিত ‘বাজবল’ যুগ।

ইসিবি জানায়, পুরুষ দলের সার্বিক পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ক্রিকেট ডিরেক্টর রব কি তার দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

দায়িত্ব হারানোর পর ম্যাককালাম বলেন, টেস্ট দলের কোচ হিসেবে কাজ করা তার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা ছিল। দলের সঙ্গে কাটানো সফল মুহূর্তগুলো নিয়ে তিনি গর্বিত। কঠিন সময়ও এসেছে, তবে বড় দায়িত্বে এমন চ্যালেঞ্জ থাকেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, টেস্ট দলের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে না পারায় অবশ্যই খারাপ লাগছে। তবে বোর্ডের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। এখন তার লক্ষ্য থাকবে সাদা বলের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।

২০২২ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও বেন স্টোকস একসঙ্গে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটে শুরু হয় নতুন এক যুগ। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, দ্রুত রান তোলা এবং ফলের জন্য ঝুঁকি নেওয়ার কৌশলই ‘বাজবল’ নামে পরিচিতি পায়। শুরুতে এই দর্শন বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাপক সাড়া ফেললেও সময়ের সঙ্গে তা কার্যকারিতা হারাতে থাকে।

ম্যাককালামের সঙ্গে ইসিবির চুক্তি ছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত। পরে ২০২৪ সালে কোচিং কাঠামোয় পরিবর্তন এনে তাকে তিন সংস্করণেরই প্রধান কোচ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল পুরো ইংল্যান্ড দলকে একটি অভিন্ন পরিকল্পনার আওতায় পরিচালনা করা। তবে সেই পরিকল্পনা টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। শেষ নয়টি টেস্টের মধ্যে সাতটিতেই হেরেছে দলটি। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে বড় পরাজয় এবং ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তোলে। ১৪ বছরের মধ্যে দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এটিই ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম হার।

এরই মধ্যে এক নাইটক্লাব-সংক্রান্ত ঘটনায় বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনের নাম আলোচনায় আসে। এরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান স্টোকস।

বর্তমানে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে নেই স্থায়ী অধিনায়ক, নেই প্রধান কোচও। অথচ আগামী ১৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার কথা।

নতুন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে হ্যারি ব্রুকের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে ইসিবি কাকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়, তার ওপর। এখন ইংল্যান্ড ক্রিকেটের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে ক্রিকেটবিশ্ব।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted