বিউপনিবেশায়ন কী

ড. মাহবুব হাসান

বিউপনিবেশায়ন হচ্ছে ইংরেজি ডিকলোনাইজেশনের বাংলা প্রতিশব্দ। কলোনি থেকে মুক্তি চাওয়ার চেষ্টা থেকেই শব্দটির ডিকলোনিয়াল ফর্মকে চিহ্নিত করেছে। এ চিহ্নদান ক্রিয়াটি খুবই জরুরি। কারণ, চিহ্ন না দিলে সেই মাল চেনা বা তাকে লিপিকরণ অসুবিধা। অসুবিধা হচ্ছে সুবিধার বিপরীত শব্দ, যা সুবিধার নয় বা সুবিধাপ্রাপ্ত নয়।

ডিকলোনিয়ালকে বিউপনিবেশায়ন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যাতে বাংলাভাষীরা সহজেই তা বোধগম্য করতে পারে।

ভাষার মূল দায়িত্ব কী? এ প্রশ্নটি সহজে ওঠে না। দায়িত্ব হচ্ছে কমোনিকেট করা বা যোগাযোগ বা সেতু নির্মাণ করা। সেতু দিয়ে যেমন আমরা এপার থেকে ওপারে যাতায়াত করি, ভাষাও তেমনি বাংলা থেকে ইংরেজি করা বা ইংরেজি থেকে বাংলাকরণের সেতু। বাংলা করা কঠিন হয় না। বাংলা যেহেতু আমরা মায়ের বুক থেকে ইনহ্যারিট করি, তেমনি তার ভাব-ভঙ্গি থেকে ইশারার মাধ্যমে কি কথা হচ্ছে তা বুঝতে পারি। এই বুঝে নেওয়ার দায়িত্বটা ভাষার। তাই এর উপাদানের গুরুত্ব সর্বাধিক।

খাবারের পরই ভাষার স্থান। খাবার না হলে বাঁচব না, তেমনি ভাষা না হলে আমাদের চলবে না। এজন্য ডিকলোনাইজেশনের মানে আমরা দাঁড় করেছি বিউপনিবেশায়ন।

এ বিউপনিবেশায়নের মর্ম কী, তার কি অভিব্যক্তি ও অভিযোজনাই বা কি-তাও বোঝা জরুরি।

আসলে সব কিছু জানা, বোঝা ও মর্মস্থ করাটা জরুরি। বোঝা সাধারণ অর্থ, কিন্তু মর্ম ঠিক সেরকম শব্দ নয়। অন্তরে চিরস্থায়ী করা হলেই তা প্রজ্ঞার সম্পদ হয়ে ওঠে। তখন আর সেই লোকটিকে ভাবতে হয় না কোন শব্দ তার দরকার। আরও কিছু যোগ করতে চাইলে তিনি নতুন শব্দ দিয়ে তার নতুন মান ও মানে বা অর্থ সৃষ্টি করতে পারেন। অ্যাডাপটেশনের বাংলা কী অভিযোজনা? তাকে আমরা যোগ করাও বলতে পারি, যোজনাও বলতে পারি। তাতে করে ওই শব্দের অর্থবোধ অনেকটাই বেড়ে যায়। নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মতোই খুলে যায় কল্পনার দরজা। তাই নানামাত্রায় অভিযোজনার শক্তিও নতুন চিন্তার মতোই নির্মাণ করে নিতে থাকে তার শাব্দিক শক্তি, পরিবেশ-প্রতিবেশ।

২.

বিউপনিবেশায়নের প্রাথমিক ধারণা কী তা বুঝতেই এ আলোচনা আমার। ধারণাটি কলোনিস্নাত, বলা উচিত। উপনিবেশ যারা সৃষ্টি করেছিল, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল উপনিবেশিত দেশের সম্পদ লুটে নেওয়া। সব ধরনের সম্পদ তারা লুটে নিয়েছে। একটি দেশের সামরিক শক্তি বা বাহুবলে দমন করে তার সঞ্চিত বা উৎপাদিত সম্পদ লুটে নেওয়ার জন্যই কলোনিয়াল শক্তি জেঁকে বসেছিল শত শত বছর ধরে। ভারত উপনিবেশের দেশগুলো ব্রিটিশ কলোনিয়াল ১৯০ বছর আমাদের দেশের স্পর্শকাতর সাংস্কৃতিক সম্পদ, লোকজ ও কুটিরশিল্প সম্পদ যেমন বিকৃত করেছে, তেমনি ঐতিহ্যের স্মারকচিহ্নগুলো দূষিত করেছে নানাভাবে ও ভঙ্গিতে। সেইসঙ্গে শিল্পবিপ্লবোত্তরকালে কলোনিগুলোকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারে পরিণত করেছিল। আমাদের মসলিন কাপড় বুননের শিল্প-কারখানা ধ্বংস করে বিলাতি কলে তৈরি শাড়ি থেকে শুরু করে সব রকম শিল্পপণ্য কিনতে বাধ্য করেছিল। সেইসঙ্গে আমাদের সংস্কৃতিকে নিুমানের, অনগ্রসর মার্কা দিয়ে তাদের সংস্কৃতিকে উন্নত বলে বয়ান নির্মাণ করেছিল। সেইসঙ্গে ইউরোপিয়ান সংস্কৃতি ও তার বাহন ভাষাকেও আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করেছিল। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা সুযোগ বুঝে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তাদের প্রশাসনের কেরানি হয়ে ক্ষমতার অংশীজন হয়েছিল। এ প্রতিযোগিতা ইংরেজ সৃষ্টি করেছিল ডিভাইড অ্যান্ড রোল নীতির আদর্শে।

প্রশ্ন জাগছে ব্রিটিশ, ফেন্স বা ডাচ শক্তি কেন কলোনি বানিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কলোনি শাসন শুরু করেছিল? লক্ষ্যটি ছিল দেশের সম্পদের ঘাটতিকে পূরণ করে নানারকম দারিদ্র‌্যাবস্থাকে বলশালী অর্থনৈতিক ধনশালী দেশে পরিণত করার জন্য। তাতে তারা সফল। মূল সমস্যা হচ্ছে তাদের সার্বিক অভাব দূর করা। পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য যেমন ধান/গম ও অন্যান্য ফসল খুঁজে নিয়েছিল মানুষ প্রকৃতি থেকে, ঠিক সেই পদ্ধতি ব্যবহার করেই তারা অন্য দেশের ওপর চড়াও হয়েছিল।

এরকম সম্পদ লুণ্ঠনের পথ যাতে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়, সেই নিগূঢ় জ্ঞান তারা উপনিবেশিত জনগণের মনের ভেতরে বুনেছিল অর্থ ও বিদ্যা ঘুস দেওয়ার মধ্যেমে। ধর্মান্তরিত করেও তারা গরিবদের সাহায্য করে। এতে করে নিরক্ষর জনশ্রেণির মধ্যে এ বোধ ও শিক্ষা জন্মে যে ঔপনিবেশিক রাজাই ভালো। এ-ভাবে মাত্র ১৯০ বছর তারা লুটেছে আমাদের মন-মনন ও মানসিক-সাংস্কৃতিক শক্তি ও সমৃদ্ধি।

আমেরিকান আদিবাসী জনগণের সম্পদই শুধু লুটে নেয়নি ব্রিটিশ রাজ সরকার, তাদের ভূমিতে নিজেদের লোকদের বসতি স্থাপনের মাধ্যমে কলোনিয়াল শাসনকে দেশ গ্রাসের মধ্যে নিয়ে গেছে। তাদের মতোই স্প্যানিশ (স্পেন) ও নাইদারল্যান্ডের (ডাচ) কলোনিয়াল শাসকরা গোটা দক্ষিণ আমেরিকার ভাষা ও সংস্কৃতি গ্রাস করে নিয়েছে। ধর্মান্তরিত মানুষেরা ওই সংস্কৃতি ও ভাষিক অধীনতা মেনে নেয়। ফলে এখন ওইসব দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম এক মহাকাব্যিক লুণ্ঠনের শিকার হয়। তাদের মন-মনন-মানসিকতা বিজয়ী স্প্যানিশ, ডাচ ও ইংরেজ-ফ্রেন্স কলোনি নানামাত্রায় শোষিত হচ্ছে। তারা বুঝতেও পারছেন না যে, তারা শোষণের নাগপাশে বন্দি। তারা উপলব্ধি করতে পারছে না যে ইংরেজি, ফ্রেন্স, ডাচ ও স্প্যানিশ ভাষা তাদের মায়ের ভাষা বা আদি ভাষা নয়। জোর করে গেলানো ভাষা।

তাদের বুঝে উঠানোর প্রকল্পের নামই হচ্ছে ডিকলোনাইজেশন বা বিউপনিবেশায়ন বা কলোনিয়াল শাসক গেছে এখন তাদের কালচারাল হেজেমনিরও অবসান জরুরি। দেশ ছেড়ে কলোনিয়াল রাজ শক্তি চলে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা স্বাধীন হয়েছে। সরাসরি তারা শোষণের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে বটে, কিন্তু মননগতভাবে, মানসিকতায়, শিক্ষা পদ্ধতিতে, কথা-বার্তায়-আচার-আচরণে, দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং সর্বোপরি তাদের সাংস্কৃতিক-পণ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে যে বাউন্ডারিতে স্বাধীন দেশ হিসাবে নিজেরা গর্ববোধ করে, কিন্তু তারা যে কালচারাল হেজেমনির শিকার হয়ে কলোনিয়ালদের কাছে পরাধীন এবং মুক্ত চিন্তার কাছে পরাধীন, তারা যে স্টাইল ও তকদিরের কাছে পরাধীন-তা উপলব্ধি করতে পারছে না। ওই একই অবস্থা আমাদেরও।

ওয়েস্টইন্ডিজের দ্বীপ দেশগুলোও কলোনি থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন হয়েছে। ধর্মান্তরিত হয়ে হারিয়েছে তার প্রাকৃতিক ধর্মাচার ক্রিয়া পদ্ধতি। মাতৃভাষা খুইয়ে তারা বেদনাসিক্ত জাতি হলেও মনের ভেতরে আশা জাগিয়ে রেখেছে। কলোনিয়াল শাসক ও শাসিত বা উপনিবেশিত মানুষের সঙ্গে কথা-বার্তা চালনার জন্য তারা কিছু সিম্বলিক শব্দ চয়ন করে বা ব্যবহার করতে থাকে। তাতে করে শাসক ও শাসিতের মধ্যে ভাষিক যোগাযোগ গড়ে ওঠে। এ ভাষিক যোগাযোগ ব্যাপকতা লাভ করায়, জনমনে এ বোধের উন্মেষ হয় যে, এ ভাষাই তারা মাতৃভাষা হিসাবে ব্যবহার করবে।

যোগাযোগের এ স্থানিক বুলি (ইংরেজ, ফ্রেন্স, ডাচ ও স্পেন)-এর শাসকের ভাষার বৈবাহিক সম্পর্ক (ইন্টারেকটিভ সম্পর্ক) সৃষ্টি হয়। ফলে নতুন একটি ভাষা সৃষ্টি হয়ে যায়। কলোনিয়ালরা নাম দেয় পিজিন (PIDGIN ভাষা বা কবুতরের ভাষা। এর মূল শব্দটি ফরাসিদের। এটা চলতে চলতে পরিপূর্ণতার দিকে গেলে তারা নিজেরাই এর নাম করে ক্রেয়ল (CREOLE)। এই ক্রেয়ল (CREOLE) হচ্ছে সামাজিক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের ভাষা। ভিন্ন ভিন্ন ভাষার সঙ্গে স্থানিক উপভাষা বা বুলির সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয়েছে প্রথমে পিজিন ও পরে আরও ডেভেলপড হওয়ায় নাম পালটে যায় ক্রেয়ন হিসাবে। তারা এ ভাষার ব্যাকরণও সৃষ্টি করে নেয়। ফলে একে এখন পরিপূর্ণ একটি ভাষা হিসাবে গণ্য করা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বীপ দেশগুলোতে। শাসকের ভাষার সঙ্গে শাসিতের এ ভাষিক ইন্টারেকটিভ সৃষ্টির ন্যারেটিবস আমাদের বোধে এ প্রশ্ন জাগিয়ে দেয় যে, আমাদের আঞ্চলিক বুলির সঙ্গে কেন্দ্রীয় কলোক্যালের মধ্যে ইন্টারেকটিভ পথে নতুন কিছু সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয় বুলির সঙ্গে শাসকের ভাষার মধ্যে সেতু নির্মিত হতে পারে এ ধরনের ক্রেয়ল সৃষ্টির মাধ্যমে। উদাহরণ দিতে পারি এভাবে যে-চিটাগনিয়ান মানুষের কথ্যবুলির সঙ্গে শাসকের প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড কলোক্যালের মিশ্রণে একটি ক্রেয়ল হতে পারে। এভাবে সিলেটি, নোয়াখাইল্যা, বরিশাইল্যা শেরপুরিয়া, টাঙ্গাইল্যা জনমানুষের স্থানিক বুলির সঙ্গে এটা হতে পারে। হতে পারে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার সঙ্গে কলোক্যাল স্ট্যান্ডার্ড বাংলার মিশ্রণেও একটি যোগাযোগের ভাষা, লেখার ভাষার রূপায়ণ করা যেতে পারে। হতে পারে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধ। আমাদের বাংলাভাষার প্রমিত অংশ কতটা বিস্তারিত? মহানগর ঢাকার ভেতরেই তো সব মানুষ কলোক্যাল স্ট্যান্টার্ড ভাষা ব্যবহার করে না বা করতে জানে না। শেখারও আগ্রহ নেই তাদের।

কেন নেই?

এ প্রশ্নটি কি আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হৃদয়ে আছে? তাদের জ্ঞানধারায় কি এর কোনো চর্চা আছে? না, নেই। তারা এটুকুও ভাবেন না যে, বাংলা ভাষাকে হিন্দু পণ্ডিতদের হাতে পড়ে তা সংস্কৃত রূপ গ্রহণ করতে হয়েছে। সেই সংস্কৃত ভাষিক উপনিবেশ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আর তার প্রতিস্থাপন করতে হবে গণমানুষের ভাষিক কথ্যবুলি দিয়ে। বাংলা ভাষা যে একটি মৃতভাষা সংস্কৃতের উপনিবেশ হয়ে আছে, সে ভাবনাও তাদের নেই। ভাষিক উপনিবেশও কালচারাল হেজেমনির অন্তর্গত।

আমরা তো জানি, একটি ভাষা প্রতি ৮-১০ মাইলের পর সামান্য হলেও ভোকাবুলারিগত চেঞ্জ হয়। ভোকাবুলিয়ারি চেঞ্জ মানে হচ্ছে-তার উচ্চারণগত ধ্বনির ভিন্নরূপ, আমরা পাই। ঢাকা থেকে পেরিফেরিয়াল এলাকা বা প্রান্তিক বা সীমান্ত অঞ্চলের স্থানিক ভাষার মধ্যে এভাবে যে ভিন্নতা রয়েছে, তাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারলে তা ওই ক্রেয়লের মর্যাদা পেতে পারে।

আমরা জানি, বাংলা ভাষার কাঠামো নির্মিত হয়েছে সংস্কৃতবহুল শব্দের আলোকে ও ব্যাকরণের কাঠামো অনুসরণে, অনুকরণে। আমরা সংস্কৃত ভাষিক চেতনা থেকে নিজেদের বের করে আনতে চাই। কারণ নতুন ব্যাকরণ ছাড়া তা সম্ভব নয়। একটি নতুন ব্যাকরণ কাঠামো দাঁড় করাতে হলে ক্রেয়লের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে আমাদের।

ক্রেয়ল এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জামাইকা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ভাষা। তাদের প্রচলিত মূল ভাষার সঙ্গে ক্রেয়লও মূল ভাষা হিসাবে চালু করেছে সে দেশের শাসক মানুষ।

৩.

আমরা কী করতে পারি?

আপাতত আমরা বাংলাকে সংস্কৃত ভাষার উপনিবেশ থেকে মুক্ত করতে পারি। সেজন্য নিতে হবে একটি প্রকল্প। আর সে প্রকল্পের ব্যয়-ভার বহন করতে হবে সরকারকে। আমরা স্বাধীন দেশ বলে দাবি করি। কিন্তু মূলত আমরা ভাষিক ও সাংস্কৃতিক উপনিবেশের বাসিন্দা। এ দাস-জীবনকে মুক্ত করতে হলে রাষ্ট্রীয় পরিচর্যা প্রয়োজন। প্রযোজন ভাষিক বুদ্ধিজীবীদের দেশপ্রেমিক চিন্তা ও আচরণ করা। ভাবনা-জীবনকে বাংলাদেশমুখী করা। ভারতীয় চিন্তার যে খাল আমরা কেটেছিলাম, তার মুখে তালা মেরে দিতে হলে এসব কাজ, উদ্যোগ নিতে হবে।

আমাদের টেরিটোরিয়াল বাউন্ডারিই আসল স্বাধীনতা নয়, আমাদের অনেক বন্দিদশাও আছে। যেমন ভারতের সঙ্গে আমাদের অলিখিত প্রেমও যে আসলে দাসখত দেওয়া, তা বোঝা গেল কয়েকদিন আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর জবানে। তিনি ধমকের সুরে বলেছেন, বাংলাদেশ যদি কোনো সামরিক সরঞ্জাম কিনতে চায়, তাহলে ইন্ডিয়ার পারমিশন নিতে হবে। এ ভয়াবহ তথ্যটি কি আমাদের স্বাধীনতাকে হুমকি দিচ্ছে না? আমরা যে ভারতের হাতে বন্দি স্বাধীনতায় বাস করছি, সেটাই প্রমাণ করে। ভারত তার কালচারাল হেজেমনির তিরগুলো ছুড়ছে তাদের বিভিন্ন কালচারাল উইপন দিয়ে। সিনেমা তার একটি। তাদের নাটক, সিরিয়ালগুলো তার একটি। আমাদের মনে-মজ্জায় হিন্দির জীবনাচার প্রভাব ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়ে গেছে। প্রতিদিনই আমরা হিন্দি সিরিয়াল দেখে দেখে শিখছি-কিয়া হুআ?/ হুক্কা হুয়া।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted