বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে প্রত্যর্পণের (এক্সট্রাডিশন) আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের আগে কয়েকটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দুবাই পুলিশ ঠিক কোন কোন বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে, তা প্রকাশ করেনি দুদক।
দুদক জানায়, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুবাই পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুদকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দুদক। যাচাই-বাছাই শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই পুলিশের কাছে পাঠাবে।
দুদকের মামলার আসামি হওয়ায় বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথিসহ আবেদন পাঠানো হয়েছিল। সেই আবেদনের জবাবে দুবাই পুলিশ চারটি বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত এসব তথ্য পাঠাবেন বলে জানিয়েছে দুদক।
গত ১৪ জুন দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করে। এর দুই দিন পর, ১৬ জুন দুদক তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিসহ প্রত্যর্পণের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ৮৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটিতে তিনি প্রধান আসামি এবং বাকি তিনটিতে সহযোগী আসামি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। বর্তমানে সেই মামলার বিচার চলছে। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতেই ওই মামলায় দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করে।
জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি









