২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের পর ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হলেও তা উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসি কতদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিজের।
স্কালোনি বলেন, “মেসির বয়স এখন ৩৯ বছর, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমার পক্ষ থেকে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার—সে যতদিন খেলার সিদ্ধান্ত নেবে, ততদিনই খেলবে।”
তিনি আরও বলেন, “দলের সব খেলোয়াড়, সতীর্থ এবং তার কাছের মানুষরা সবসময় তাকে সমর্থন করবে। সে যা অর্জন করেছে এবং ফুটবলকে যা দিয়েছে, তা নিয়ে সবাই গর্বিত। আমার কাছে সে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।”
এই হারের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। মেসির নেতৃত্বে দলটি ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল।
অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের শিরোপা জয়
নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ হয় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস গোল করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে করা সেই গোলই নিশ্চিত করে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লা রোখা।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলেন স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল। ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্বকাপ জিতে স্পেন আবারও তাদের স্বর্ণযুগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল।
তোরেসের রেকর্ড, দুর্দান্ত স্পেন
ফেরান তোরেসের গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছে। তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে গোল করা পঞ্চম ফুটবলার। এর আগে ২০১৪ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছিলেন জার্মানির মারিও গোটজে। এছাড়া ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পর দ্বিতীয় বার্সেলোনা খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন তোরেস।
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত রক্ষণভাগের প্রদর্শনী দেখিয়েছে স্পেন। আট ম্যাচে তারা হজম করেছে মাত্র একটি গোল। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্রয়ের পর সৌদি আরব, উরুগুয়ে, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে লা রোখারা।
ফাইনালেও বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা মাত্র একটি অন-টার্গেট শট নিতে সক্ষম হয়, যেখানে স্পেন নেয় ১২টি শট। অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন।
জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি









