যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১১তম দিনের হামলায় কাঁপছে ইরান, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো এ হামলায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হামলার জবাবে পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানলে পাল্টা হামলার হুমকিও দিয়েছে ইরান।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি মোকাবিলা এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করার লক্ষ্যেই টানা একাদশ দিনের মতো এ বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, হামলায় ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ সরবরাহ-সংক্রান্ত অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার পর তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

এদিকে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহরের কিছু এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজের খবরে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকাতেও একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে।

ফার্স নিউজের বরাতে জানা যায়, খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলোও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। তবে শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলার ঘটনাও বেড়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তিনি অভিযানের জন্য পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান। তবে এ ঘোষণার পর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

এর জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হবে।

সূত্র: আল জাজিরা।

জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর