লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা

লিনা আকতার

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ, যা বিষ মুক্তকরণ, বিপাক এবং সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। তবে, লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা দূর করা প্রয়োজন।

* ভ্রান্ত ধারণা : লিভার ডিটক্স ডায়েট এবং ক্লিনজিং অপরিহার্য

▶ সঠিক তথ্য : যদিও এটা সত্য যে, শরীরকে বিষমুক্ত করতে যকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে সর্বোত্তমভাবে কাজ করার জন্য এর কোনো বিশেষ খাদ্যতালিকা বা শরীরে শোধনের প্রয়োজন হয় না। যকৃত স্বাভাবিকভাবেই রক্ত পরিস্রাবণ এবং পিত্তরস উৎপাদনের মতো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। ডিটক্স ডায়েট বা পানীয়ের পরিবর্তে, যকৃতের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ফল, শাকসবজি, চর্বিহীন প্রোটিন এবং শস্যদানাসমৃদ্ধ একটি সুষম খাদ্যতালিকা বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যায়ামের ওপর মনোযোগ দিন।

* ভ্রান্ত ধারণা : লিভারের ক্ষতির একমাত্র কারণ হলো অ্যালকোহল বা ড্রাগের ব্যবহার

সঠিক তথ্য : এটা সত্যি যে, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং মাদক সেবনের ফলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে, যার মধ্যে স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ, হেপাটাইটিস এবং সিরোসিসের মতো অবস্থা অন্তর্ভুক্ত; তবে এগুলোই একমাত্র কারণ নয়। কেউ জন্মগতভাবে লিভারের রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, খাদ্যাভ্যাস ও পানীয় থেকে রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, অটোইমিউন লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হতে পারেন, কোনো ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে, অথবা অজানা কারণেও আক্রান্ত হতে পারেন।

* ভ্রান্ত ধারণা : লিভারের ক্ষতি হলে তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যায়

সঠিক তথ্য : লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রায়শই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে খুব কম বা কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ক্লান্তি, ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস), পেটে ব্যথা এবং ফোলাভাবের মতো লক্ষণগুলো কেবল তখনই দেখা দিতে পারে যখন লিভারের ক্ষতি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে যায়। লিভারের সমস্যা আগেভাগে শনাক্ত ও প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা অপরিহার্য।

* ভ্রান্ত ধারণা : লিভার সাপ্লিমেন্ট রোগ নিরাময় বা প্রতিরোধ করতে পারে

সঠিক তথ্য : এমন কোনো জাদুকরী বড়ি বা সাপ্লিমেন্ট নেই যা নিজে থেকেই লিভারের রোগ সারিয়ে তুলতে পারে বা এর ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, অনেক সাপ্লিমেন্টই অনিয়ন্ত্রিত এবং লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিজে থেকে কোনো নতুন ওষুধ বা খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে সর্বদা আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

লেখক : পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।

সৌজন্যে : যুগান্তর

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted