সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বিশেষ অভিযান বাহিনীর (স্পেশাল অপারেশনস) কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইরানশাহর এলাকায় ইরানি সেনা সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) আইআরজিসির বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানায়।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা অব্যাহত রাখলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে কোনো তেল বা গ্যাস রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
এদিকে, টানা ষষ্ঠ রাতের মতো বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গভীর রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের একাধিক শহর ও পাঁচটি সেতুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ, সিরিক ও ইরানশহরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হন। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামিরের কাছে দুটি সেতুতে পৃথক হামলায় সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে চারটি বিস্ফোরণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে আইআরআইবি। অপরদিকে, আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।









