হবিগঞ্জের পর এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় পৌরসভার গেটসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোলাপগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে বের হওয়ার পর তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।
এনসিপির অভিযোগ, বিএনপির নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিএনপির কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।”
এর আগে গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-সহ বেশ কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার পর হবিগঞ্জে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা ১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১০০ জনকে।
হামলার প্রতিবাদ, মামলা দায়ের এবং আহতদের খোঁজখবর নিতে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশের বাধার মুখেও পড়েন। গত বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়।
এ সময় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলেও প্রশাসন তাদের বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, মামলা দায়ের এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই তারা সেখানে যাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তাদের অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল।
শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণেই এনসিপির নেতাকর্মীদের অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল।”
সিলেটের গোলাপগঞ্জে হামলার অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি









