‘হুজ হু অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট

‘হুজ হু বাংলাদেশ-২০২৬’ অ্যাওয়ার্ড আসরে ‘শিল্প ও সাহিত্য’ বিভাগে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন দেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম।

১৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লেখক রাহিতুল ইসলামের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী ও অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পা।

এবারের আসরে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও উদ্যোক্তাসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা দেয় ‘হুজ হু’ বাংলাদেশ।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক কথাসাহিত্যের (টেক-ফিকশন) নতুন ধারা তৈরি এবং এই জনরার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ রাহিতুল ইসলামকে এই আন্তর্জাতিক মানের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ফ্রিল্যান্সিং ও প্রযুক্তির নানা দিক নিয়ে সহজ ভাষায় গল্প-উপন্যাস লিখে আসছেন। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— সুখবর বাংলাদেশ, চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ‘ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া’, ‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প, হ্যাকার হিমেল, তথ‍্যপ্রযুক্তি খাতের নায়ক সিরিজ, কল সেন্টারের অপরাজিতা, বদলে দেওয়ার গান, ভালোবাসার হাট বাজার, দুই ভুবনের মানুষ এবং সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত উপন্যাস ‘বাদলের কারাবাস’। তার লেখা অনেক গল্প ইতোমধ্যে নাটক ও টেলিফিল্ম হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

পুরস্কারপ্রাপ্তির পর প্রতিক্রিয়ায় রাহিতুল ইসলাম বলেন, যে লেখা মানুষের কল্যাণে আসে, সে লেখাই প্রকৃত সাহিত্য। আজ একটি বিশেষ উপন্যাসের কথা বলতে চাই-প্রথমা প্রকাশন থেকে বের হওয়া আমার নতুন উপন্যাস ‘বাদলের কারাবাস’। এটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং এক নির্মম সত্য। ২০০৮ সালে ভ্রমণে গিয়ে নাম বিভ্রাটের কারণে ভারতে একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন নির্দোষ বাদল ফরাজী। দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০১৮ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও তিনি এখনো কারামুক্ত হননি। দীর্ঘ ১৮ বছর এই কারাবাসে বাদল হারিয়েছেন তার বাবাকে, আর এখন তার মা মৃত্যুশয্যায় শেষবারের মতো ছেলেকে দেখার প্রহর গুনছেন। একজন লেখক হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে আমি বাদল ফরাজীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

এতে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন দৃকের প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। এছাড়া সম্মাননা পান কৃষিতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. জি. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, শিল্প ও সংস্কৃতিতে ফরিদা আক্তার পপি (ববিতা), শিল্প ও সাহিত্যে কথাসহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম, শিক্ষায় মনসুর আহমেদ চৌধুরী, উদ্যোক্তা (পুরুষ) সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী এরশাদ উল্লাহ, উদ্যোক্তা (নারী) ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের কনা আলম, পেশাজীবীতে হোটেল শেরাটনের সিইও শাখাওয়াত হোসেন, সাংবাদিকতায় একাত্তর টেলিভিশনের সিওও ও বার্তা প্রধান শফিক আহমেদ, ক্রীড়ায় সাঈদ উর রব (যুক্তরাষ্ট্র) এবং সমাজসেবায় শান্তি শ্রী (শ্রী চিন্ময় ফাউন্ডেশন)।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও কৃষি উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব  শাইখ সিরাজ এবং ‘হুজ হু বাংলাদেশ’-এর প্রধান নির্বাহী নাজিনুর রহিম ও সম্পাদক লুৎফুন নাহার তাপসীসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৮৪৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ সারা বিশ্বের অনুসরণীয় গুণীজনদের জীবনী প্রকাশ ও সম্মাননা প্রদান করে আসছে ‘হুজ হু’। বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted