৪ জেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, লাখো মানুষ পানিবন্দি

ডেস্ক রিপোর্ট

ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, নীলফামারী ও শেরপুরÑ এ চার জেলায় নদ-নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। এতে নিম্নাঞ্চলের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও ভেঙে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবার কোথাও তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা ও মাছের ঘের। পরিস্থিতির সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

সুনামগঞ্জ : টানা বৃষ্টি ও উজানের পানি আসায় সুনামগঞ্জের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত ছাতক উপজেলায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার এবং দিরাইয়ের মার্কুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক জানান, উজানে আরও দু-এক দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, প্লাবিত এলাকার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মোহনগঞ্জ ও কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) : জেলার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। মহাদেও, গণেশ্বরী ও উব্দাখালী নদীর পানি হু-হু করে বেড়ে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাউবো জানায়, কলমাকান্দার উব্দাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে নলছাপ্রা-বালুচড়া সড়কের ১০০ ফুট ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একাংশ ভেঙে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ঢলের পানিতে প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধানের চারা ও প্রচুর বীজতলা নষ্ট হয়েছে।

নীলফামারী : ভারতীয় উজানের ঢলে নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। গতকাল সকালে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। পানির প্রচণ্ড চাপ সামলাতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রেখেছে পাউবো।

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ের ঢলে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীর নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। গতকাল চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার রেকর্ড ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে নালিতাবাড়ীর দুই ইউনিয়নের কয়েক শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রীষ্মকালীন সবজি খেত ও আমনের বীজতলা। শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমীন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরএম/কান্ট্রিবিডি 

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted