একীভূত হওয়া ৫টি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের নিয়ম আরও শিথিল করে জরুরি ও পারিবারিক চিকিৎসার প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তোলার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় বিশেষ স্কিমের আওতায় এই মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগে শুধুমাত্র গ্রাহকের নিজের চিকিৎসার জন্য প্রযোজ্য ছিল।
- পরিধির বিস্তার : শুধু নিজের চিকিৎসা নয়, এখন মেয়ের বিয়ে বা পরিবারের সদস্যদের আকস্মিক চিকিৎসার মতো জরুরি সংকটেও মিলবে টাকা।
- মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি : গ্রাহকদের বাস্তব জীবনযাত্রার নানামুখী সংকট বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অর্থ উত্তোলনের নিয়ম সহজ করেছে।
- আস্থার সংকট দূরীকরণ : ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ স্কিমে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
- সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
- ইউনিয়ন ব্যাংক
- গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
- এক্সিম ব্যাংক
- ব্যাংকের রূপান্তর: গত বছর ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে এই নতুন ব্যাংক গঠিত হয়।
- পরিশোধিত মূলধন: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
- সরকারি জোগান: মোট মূলধনের মধ্যে সরকার একাই দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।
- আমানতকারীদের মালিকানা: বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
- বীমা তহবিল থেকে পরিশোধ: আমানত বীমা তহবিলের ১২ হাজার কোটি টাকার সহায়তায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়ার কাজ চলছে।
- বাকি অর্থ ফেরত: অবশিষ্ট টাকা পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ স্কিম চালু রেখেছে।
- মোট সুবিধাভোগী: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারী মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা হাতে পেয়েছেন।
- শীর্ষে ফার্স্ট সিকিউরিটি: একক ব্যাংক হিসেবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছেন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে এক্সিম ব্যাংক ও এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা চারটি ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক—ব্যাপক অনিয়ম ও জামানতবিহীন ঋণের কারণে তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পাঁচ ব্যাংকের ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে জামানত ছিল মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যার ফলে বর্তমানে প্রায় ৮৭.৪৩ শতাংশ বা ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ব্যাংকগুলোর আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নষ্ট করে দিয়েছে।








