ফেসবুক থেকে নেওয়া

আমি রীতিমতো স্টারস্ট্রাক হয়ে ছিলাম

তাসনিম জারা

অভ্যুত্থানের পরপর Umama Fatema, নুসরাত আর রাফিয়ার একটা ইন্টারভিউ দেখেছিলাম। যত দূর মনে পড়ে, ডেইলি স্টার সেটা পাবলিশ করেছিলো। ওরা বলছিলো আন্দোলনের দিনগুলোতে কী করেছে, কেন করেছে, কেমন দেশ চায়। এত সাহসী ও এত অল্প বয়সে এমন পরিণত কথা আমি বেশি দেখি নি। আমার রাজনীতিতে আসার পেছনে যে কয়েকটা ধাক্কা কাজ করেছে, ওই ইন্টারভিউটা তার একটা।
দেশে ফেরার পর উমামার সাথে যেদিন প্রথম দেখা হলো, আমি রীতিমতো স্টারস্ট্রাক হয়ে ছিলাম। সামনাসামনি ও আরও সহজ। কোনো পারফরম্যান্স নেই। যা বিশ্বাস করে তা-ই বলে, যা বলে তা-ই করে। সেই দিন একটা ছবি তুলে রেখেছিলাম – যুক্ত করে দিচ্ছি।
আমাদের মতো নতুন রাজনীতিতে আসা মানুষদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটা হলো নিজের কম্পাস ঠিক রাখা। প্রতিদিন এত সিদ্ধান্ত, এত চাপ, এত ধোঁয়াশা; সব প্রশ্নের উত্তর গোড়া থেকে ভেবে বের করা সম্ভব না। তাই কয়েকজন মানুষ লাগে, প্রয়োজনে যাদের বিবেচনার ওপর ভরসা করা যায়। উমামাকে দেখে মনে হতো, ও আমার সেই মানুষদের একজন হতে পারে।
তারপর অনেকটা সময় গেছে। অনেককে বদলে যেতে দেখেছি। অনেকের কাছ থেকে হতাশ হয়েছি। উমামা রয়ে গেছে।
গত দুই বছরে উমামা বারবার স্রোতের বিপরীতে যেয়ে নীতিনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে প্ল্যাটফর্মকে আর নিজের কথার সাথে মেলাতে পারেনি, সেখান থেকে নিজেই বেরিয়ে এসেছে। দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে “না” বলেছে। ডাকসু নির্বাচনে কোনো দলের সমর্থন ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছে। হেরেছে, কিন্তু নিজের শর্তে। উমামার কাছে ক্ষমতার রাস্তাটা খোলা ছিল, চাইলেই সে যেতে পারত। সে যায় নি, বরং হাতের নাগালের ক্ষমতাকে “না” বলেছে।
আমাদের রাজনীতিতে ক্ষমতার দিকে হাঁটা খুব সাধারণ ঘটনা। নিজের কথার সাথে মিল রাখতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া বিরল।
ইদানীং কেউ কেউ উমামাকে ব্যর্থ বলতে চাইছেন কারণ সে এমপি হতে পারেন নি। এমপি হওয়াটাই যেন সফলতা; মানুষের জীবনে কিছু বদলাতে পারলেন কি না, সে প্রশ্নটা অপ্রাসঙ্গিক। এই হিসাব মানলে স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের প্রতিটা এমপিই সফল। কারণ তাঁরা তো এমপি হয়েছিলেন।
আসল হিসাব হয় দুইটা প্রশ্নে: পজিশনটা পেলেন কীভাবে, আর পেয়ে করলেন কী। যে কোনো মূল্যে আসন চাই, এ তো পুরোনো বন্দোবস্তেরই নিয়ম। ওই নিয়মে খেললে নতুন বন্দোবস্ত থাকে কোথায়? বদলায় শুধু মুখ। উমামা ওই দলে নেই। সেজন্যই ওর মধ্যে নতুন কিছুর আশা এখনো বেঁচে আছে।
কেউ কেউ উমামাকে মঞ্চে কথা বলতে দেখলে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। আর ওকে মঞ্চে কথা বলতে দেখলে আমার শিরদাঁড়াটা একটু সোজা হয়ে যায়।
ছোটবেলায় শুনেছিলাম, চীনের দুঃখ হোয়াংহো। উমামাকে অনেকে হোয়াংহো নদীর সাথে তুলনা করে ব্যর্থদের কাতারে ফেলতে চায়। কিন্তু বড় হয়ে জেনেছি, ওই হোয়াংহোর পলিমাটিতেই চীনা সভ্যতার জন্ম। যে নদীকে লোকে দুঃখ বলে, সে নদীই আসলে জন্ম দেয়।
নতুন বাংলাদেশের কথা ভাবলে যাদের চেহারা ভরসার প্রতীক হয়ে আমার মানসপটে ভেসে ওঠে, তাঁদের মধ্যে একজন হচ্ছেন উমামা ফাতেমা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর