টানা বর্ষণে সাত জেলায় আড়াই লাখের বেশি পরিবার পানিবন্দি, প্রাণহানি বেড়ে ৫১

ডেস্ক রিপোর্ট

টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে দুই লাখ ৬৭ হাজারের বেশি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখ।

রোববার (১২ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি এবং ত্রাণ বিতরণসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলা সাতটি হলো—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে ভূমিধসে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে সাতজন এবং অন্যান্য এলাকায় আরও তিনজনসহ মোট ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

বন্যাকবলিত এলাকায় এক হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নগদ অর্থ, চাল ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ ও বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ঢাকায় জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে

টানা বর্ষণের প্রভাব রাজধানী ঢাকাতেও পড়েছে। মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ধানমন্ডি, পান্থপথ, কাকরাইল, শান্তিনগর, আরামবাগ, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

মিরপুরের পীরের বাগ এলাকার বাসিন্দা আফসানা করিম জানান, সকাল থেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও রিকশা না পেয়ে অফিসে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পরে দ্বিগুণ ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কর্মস্থলে পৌঁছান তিনি। জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে দায়ী করেন এই চাকরিজীবী।

এদিকে মিরপুর-১০ এলাকায় পানি জমে ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ধানমন্ডিতে একটি গাছ সড়কের ওপর পড়ে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

পরীক্ষা স্থগিত, বন্ধ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল

বৈরি আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্ধবার্ষিক ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এছাড়া বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে টানা জলাবদ্ধতার কারণে ছয় দিন ধরে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল। তবে দেশের অন্যান্য রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

আরও বৃষ্টি ও নতুন বন্যার শঙ্কা

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বান্দরবানের সাঙ্গু, চট্টগ্রামের দোহাজারী, সুনামগঞ্জের মারকুলি, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, ভুগাই-কংস, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর