ঠাকুরগাঁওয়ে তুলা ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের তুলাচাষে আরও উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জেলার ১৯০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তুলাচাষির মাঝে বিনামূল্যে উন্নতমানের তুলাবীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
তুলা উন্নয়ন বোর্ড, ঠাকুরগাঁও জোনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কৃষককে প্রায় ৮ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬০০ গ্রাম হাইব্রিড তুলাবীজ, ২৫ কেজি ইউরিয়া, ৫০ কেজি টিএসপি, ৫০ কেজি এমওপি, ২ কেজি বোরন, ৪৫০ মিলিলিটার বালাইনাশক এবং ৩০০ মিলিলিটার প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর (পিজিআর)।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে আয়োজিত প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন।

প্রণোদনা পেয়ে কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও কৃষি উপকরণ পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কমবে। এতে তুলাচাষে আগ্রহ বাড়বে এবং আগামীতে জেলার আরও বেশি জমিতে তুলার আবাদ করা সম্ভব হবে।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলায় ৫৭৪ হেক্টর জমিতে তুলাচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ এবং সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করছে ঠাকুরগাঁও জোন।
বর্তমানে জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে তুলার বপন মৌসুম চলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সময়মতো প্রণোদনা ও কৃষি উপকরণ পাওয়ায় চলতি মৌসুমে তুলার আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বলেন, “দেশের বস্ত্রশিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে দেশীয় তুলার উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় এনে উন্নতমানের বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।”
ঠাকুরগাঁও জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার জানান, শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, দিনাজপুরের ৩১০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককেও একই কর্মসূচির আওতায় উন্নতমানের বীজ ও কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ মৌসুমে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর—দুই জেলায় মোট ৫০০ জন তুলাচাষিকে এ প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করে দেশে তুলার উৎপাদন বাড়াতে তুলা উন্নয়ন বোর্ড ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচি তুলাচাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।









