ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার (২২ জুলাই) দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট ও লখনউসহ একাধিক শহরে আন্দোলনকারীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সিভিল সোসাইটির বিভিন্ন সংগঠন নিট কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তাতেও বিক্ষোভ থামেনি।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং আন্দোলন রাজধানী দিল্লির বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে মারাঠা আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাতিল আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পাটনা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও সুরাটেও বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
উত্তরপ্রদেশের লখনউতে কংগ্রেস ও বিজেপির কর্মীদের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অজয় রায়ের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে অজয় রাইসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। পাল্টা কর্মসূচি পালন করে বিজেপিও।
এদিকে দিল্লিতে আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ দিয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সব সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, কোনো জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের আগে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা পুলিশের দায়িত্ব। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি









