খুব শিগগিরই পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে বলে সরকার ও বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে মনোনয়নে বিলম্ব হলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সূত্রটির ভাষ্য, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে প্রচলিত রীতিতে সরকারি দলের বিশ্বস্ত কাউকেই এ পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
এদিকে বঙ্গভবন–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই অধস্তন কর্মকর্তাদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ওই সময় শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর সংসদ বিলুপ্তি, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে জুলাই আন্দোলন–সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তবে সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কায় তখন তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।
পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে সরকার বা বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি









