ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও একটি তিনতলা ভবন অক্ষত থাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় পর্যটন শহর লা গুয়াইরায় অবস্থিত ভবনটি চারপাশের ধ্বংসস্তূপের মাঝেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে নজর কেড়েছে।
৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্যারিবীয় সাগর উপকূলবর্তী লা গুয়াইরা শহর। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের এ শহরের অসংখ্য বহুতল ও বিলাসবহুল ভবন ধসে পড়লেও অক্ষত রয়েছে এলিয়াস এদুয়ার্দো চায়েব ও তার বাবার নির্মিত ২০ বছর পুরোনো ভবনটি।
সমুদ্রতীরবর্তী ওই তিনতলা ভবনে রয়েছে ছয়টি অ্যাপার্টমেন্ট। ৩৭ বছর বয়সী এলিয়াস এদুয়ার্দো বলেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে এসে নিজের ভবনটি অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, “পথে চারপাশের ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছি। কিন্তু যখন দেখলাম আমাদের ভবনটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে, তখন সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।”
এলিয়াস ও তার বাবা মনে করেন, ভবনটির তুলনামূলক কম উচ্চতা, শক্ত ভিত্তি, উন্নত নির্মাণসামগ্রী এবং লা গুয়াইরার অস্থিতিশীল মাটির উপযোগী নকশাই এটিকে রক্ষা করেছে।
ভূমিকম্পে ভবনের কিছু দেয়ালে ফাটল দেখা দিলেও ভিত্তি, স্তম্ভ, সিঁড়ি ও জানালার কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভবনের কোনো বাসিন্দাই আহত হননি।
বয়োজ্যেষ্ঠ এলিয়াস চায়েব বলেন, “এই ভবনটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।”
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণ পেশায় থাকা এলিয়াস জানান, তিনি কখনোই লা গুয়াইরায় খুব উঁচু ভবন নির্মাণ করতে চাননি। ১৯৯৯ সালের ভয়াবহ ভূমিধস এবং ১৯৬৭ সালের কারাকাস ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “অনেক উঁচু ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পেয়েছিলাম, কিন্তু সেগুলো গ্রহণ করিনি। যেসব ভবন নির্মাণে রাজি হইনি, সেগুলোর অনেকগুলোই এবার ধসে পড়েছে।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলজুড়ে বিস্তৃত সান সেবাস্তিয়ান ফল্ট অঞ্চলে ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ভূমিকম্পের কারণে আগামী কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি









