ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুনর্বহালের প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি বলেছে, ইরানের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকলে অঞ্চলটির অন্য কোনো দেশও নির্বিঘ্নে তেল-গ্যাস রফতানি করতে পারবে না।
বুধবার (১৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, “এই অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রফতানি হয় সবার জন্য হবে, নয়তো কারও জন্যই হবে না।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে ব্যবহৃত তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যান্য সমুদ্রপথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদিও কোন কোন নৌপথকে লক্ষ্য করা হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান মূলত ইয়েমেনভিত্তিক মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি অচল করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং সুয়েজ খালগামী জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় ১২ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
আইআরজিসির সূত্রের বরাতে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, এই জলপথে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ তৈরি করতে হুতিরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালিও অচল হয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।









