যুদ্ধবিরতির ৮ মাসেও গাজায় থামেনি মৃত্যু-বাস্তুচ্যুতি, আশ্রয়শিবিরে নতুন আতঙ্ক ইঁদুরের উপদ্রব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের আট মাস পেরিয়ে গেলেও গাজা উপত্যকায় শান্তির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ইসরাইলি হামলা, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজারো মরদেহ চাপা পড়ে আছে। অন্যদিকে আশ্রয়শিবিরগুলোতে ইঁদুরের ব্যাপক উপদ্রব নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবারও ইসরাইলি হামলায় গাজায় একজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে বাস্তুচ্যুত। তারা দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত ও অস্বাস্থ্যকর অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, বর্জ্য অপসারণের সুযোগ না থাকা এবং বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে পুরো এলাকায় ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গাজা সিটিতে প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনা জমে রয়েছে। এর ফলে আশ্রয়শিবিরগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ও সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মশা, মাছি এবং ইঁদুরের উপদ্রবও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ফিলিস্তিনিদের জন্য চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সংস্থা মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস (MAP)-এর জরুরি বিভাগের প্রধান স্যালি সালেহ জানান, বড় আকারের ইঁদুর রাতে ঘুমন্ত শিশু, নবজাতক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কামড়ে আহত করছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের ইঁদুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ইঁদুর শুধু মানুষের জন্যই হুমকি নয়, ত্রাণের চাল-ডালের বস্তা কেটে খাদ্যও নষ্ট করছে, ফলে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা চরম

গত বছরের ১১ অক্টোবর মার্কিন ও ইরানি মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে দুই ধাপের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি নতুন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি বা আন্তর্জাতিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও আট মাস পরও এসব শর্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৪২৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে।

এদিকে, জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গত জুন মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে, গাজায় শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ইসরাইল ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইসরাইল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর