ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার অত্যন্ত সুদৃঢ় ও গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রতিবেশীর এত বেশি হক রয়েছে যে, একপর্যায়ে তারা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন বলে আশঙ্কা হয়েছিল। ধর্ম, বর্ণ বা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার সাথেই উত্তম আচরণ করা এবং তাদের সব ধরনের কষ্ট ও ক্ষতি থেকে মুক্ত রাখা প্রতিটি মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব।
প্রতিবেশীর প্রকারভেদ
ইসলামে প্রতিবেশীদের মূলত ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
-
- আত্মীয় প্রতিবেশী : যারা একইসঙ্গে রক্ত বা বৈবাহিক সম্পর্কের আত্মীয়।
- অনাত্মীয় প্রতিবেশী : যাদের সাথে আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক নেই।
- অমুসলিম প্রতিবেশী : ভিন্ন ধর্মের অনুসারী, যারা আশেপাশে বসবাস করেন।
সব ধরনের প্রতিবেশীর সাথেই মানবিক আচরণ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা-
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা আন-নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “ইবাদত কর আল্লাহর এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকটবর্তী প্রতিবেশী, দূরবর্তী প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী ও মুসাফিরের সাথে।”
হাদিস শরীফেও প্রতিবেশীর অধিকারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ।
ঈমানের অঙ্গ : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করে”।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা : অন্য এক হাদিসে এসেছে, “যার অনিরাপদ আচরণ থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না”।
সহমর্মিতা: নবীজি (সা.) হজরত আবু যর (রা.)-কে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, “যখন তুমি ঝোল বা তরকারি রান্না করবে, তখন তাতে পানি একটু বেশি দেবে এবং তোমার প্রতিবেশীর পরিবারের কথা বিবেচনা করে তা থেকে তাদেরও কিছু অংশ দেবে।”
প্রতিবেশীর প্রধান দায়িত্ব ও অধিকারসমূহ
-
- কষ্ট না দেওয়া: কথা, কাজ বা নিজের কোনো আচরণের মাধ্যমে প্রতিবেশীকে কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক কষ্ট না দেওয়া。
- সাহায্য করা: প্রতিবেশী অসুস্থ হলে সেবা করা, বিপদে আর্থিক বা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করা。
- খোঁজখবর রাখা: প্রতিবেশী অভুক্ত থাকলে নিজ পেট পুরে না খেয়ে তাদের অন্ন জোগানের ব্যবস্থা করা। রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি পেট পুরে খায়, অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে, সে প্রকৃত মুমিন নয়”。
- সম্মান রক্ষা করা: প্রতিবেশীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা, তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের পরিবার ও সম্পদের হেফাজত করা。
- উপহার দেওয়া ও আনন্দ ভাগ করা: ছোট বা সামান্য উপহার হলেও তা আদান-প্রদান করা, যা পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।
সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। একজন ভালো প্রতিবেশী সমাজকে শান্তিময় ও বাসযোগ্য করে তোলে।









