আটটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও নতুন এক মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে আপাতত তার মুক্তি আটকে গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় পুলিশকে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশনের পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন জানান, এদিন খায়রুল হককে আদালতে শারীরিকভাবে হাজির করা হয়নি। তাকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আদালত গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে একই মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতির জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন বলেন, এক মামলায় জামিন পাওয়ার পরই আরেক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। আজ নবম মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো। কবে মুক্তি মিলবে জানি না। আমরা যেন সেঞ্চুরি পূরণের অপেক্ষায় আছি।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
শুরুতে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরপরই নতুন নতুন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ফলে তার মুক্তি বারবার আটকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আইনজীবীদের।
সবশেষ গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। তবে দুই দিন পরই বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।
সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও মামলার মূল নথি আদালতে না থাকায় শুনানি পিছিয়ে বুধবার নির্ধারণ করা হয়। পরে বুধবার শুনানি শেষে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় আহত উজ্জ্বল মিয়া ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেন।









