মার্কিন বাহিনী আজ রাতেই ইরানের ওপর আবারও অত্যন্ত কঠোর সামরিক হামলা চালাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।
বুধবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু সামান্য একটি আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখছি—আজ রাতেই আমরা তাদের (ইরান) ওপর খুব কঠিন আঘাত হানতে যাচ্ছি।’
মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাল্টাপাল্টি হামলার পর গত মাসে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা স্মারক কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের এ হুঁশিয়ারি আসে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চান না। তবে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের চুক্তির অধীনে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু আমি জানি না আমাদের কোনো চুক্তি হবে কি না। আমরা হয়তো চুক্তি ছাড়াই এটা করে ফেলব, কারণ জানেন তো, এটাই সহজ।’
ইরানি আলোচকদের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা মিথ্যা বলেছে এবং প্রতারণা করেছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী শেষ বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন ইরানের শীর্ষ নেতারা।
তার ভাষায়, ‘তারা বিরতি চেয়েছিল, তারা খামেনির জানাজায় যেতে চেয়েছিল, তারা অনুরোধ করেছিল যেন আমরা তাদের হত্যা না করি। আমি বলেছিলাম… আমরা তোমাদের হত্যা করব না।’
এর আগে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে নতুন করে ইরানে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপসহ প্রায় ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
এর পাল্টা জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
এদিকে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা খুবই কম। ট্রাম্পের ঘোষিত সম্ভাব্য নতুন হামলা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা।









