মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, হামলায় ঘাঁটির একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন সংরক্ষণের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্য এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস হয়েছে।
তবে এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশটির আকাশসীমার দিকে ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে হামলা শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরান জানিয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি জাহাজ একটি ‘অননুমোদিত নৌপথ’ ব্যবহার করার চেষ্টা করে। গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন নতুন মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল জাজিরা









