এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে টেকসই ও স্থিতিশীল করতে স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বহিরাগত বিভিন্ন অভিঘাত মোকাবিলায় উত্তরণ প্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত সময় ও কার্যকর সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সাধারণ পরিষদ হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

 

ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব দেশের টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি। কারণ, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও অনেক দেশের সামনে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে যায়, যা মোকাবিলায় কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন।

 

তিনি জানান, নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং বহিরাগত বিভিন্ন অভিঘাতের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল জাতিসংঘের কাছে উত্তরণের প্রস্তুতির সময় আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। এ প্রস্তাব অনুযায়ী প্রস্তুতি পর্ব ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে।

 

ড. তিতুমীর বলেন, এই অতিরিক্ত সময় কোনো বিলম্ব নয়, বরং একটি কৌশলগত প্রয়োজন। এ সময়ের মধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংস্কার কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

 

তিনি আরও বলেন, দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন এলডিসিগুলোর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির সহনশীলতা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

 

আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই পর্যালোচনা বৈঠকে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এতে এমন বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা এলডিসিগুলোর উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও টেকসই করবে।

 

তিনি বলেন, এলডিসিগুলোর সফল উত্তরণ শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই নয়, বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত সহযোগিতা, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর