ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের আংরাইপুকুর (উত্তর ঠাকুরগাঁও) লিচুবাগান এলাকায় ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে আরএসডিও আনন্দ স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। বর্তমানে চার শতাধিক বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সহায়তা ও এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন এবং উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সরেজমিনে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ আরিফ।
পরিদর্শনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাদের লেখাপড়া, খেলাধুলা ও বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বই থেকে কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি করে শোনায় এবং নিজেদের হাতে লেখা প্রদর্শন করে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষিকা ইকলিমা খাতুন মিনা, অন্যান্য শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষিকা ইকলিমা খাতুন মিনা জানান, সমাজের অবহেলিত প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালে সরকারের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন তিনি। প্রতি বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সবাইকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত সরকারি অনুদান না পাওয়ায় নানা আর্থিক সংকটের মধ্যেও বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি, চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বেতন-ভাতা ছাড়াই প্রায় ৫০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত বা সরকারি করা হলে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলে সমাজের অবহেলিত প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোর-কিশোরীদের আরও কার্যকরভাবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের মতে, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনে ঠাকুরগাঁওয়ে আরএসডিও আনন্দ স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র একটি মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তাই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এখন সময়ের দাবি।









