‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন-২০২৬। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ম্যারাথনটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করার ঘটনাকে স্মরণ এবং জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
ম্যারাথনটি কার্জন হল থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি, তোরণ, হাজী মুহম্মদ মহসিন হল ও মাস্টারদা সূর্যসেন হল প্রদক্ষিণ করে কলাভবনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তিন দিনব্যাপী (১৭–১৯ জুলাই) ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ১৭ জুলাই শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়নের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল, যার পরিণতি আসে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। তিনি জুলাইয়ের শহীদদের বিচার নিশ্চিত এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি জনপরিসর থেকে মুছে ফেলার বিভিন্ন চেষ্টা চলছে। আন্দোলনের ইতিহাস, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ এবং সে সময়ের ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, দুই সহস্রাধিক শহীদ ও অসংখ্য আহতের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনের আলোকচিত্র, শহীদদের স্মৃতিচারণ, সে সময়ের বিভিন্ন দলিল, আন্দোলনের স্মারক, ইনকিলাবি সংগীত এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা স্থান পেয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।









