আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত ২০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংস্থাটির প্রকাশিত ‘বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাস’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী একদিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী দুই দিন এ ধারা অব্যাহত থেকে তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী তিন দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আত্রাই নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নওগাঁ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া আত্রাই নদী নাটোর ও সিরাজগঞ্জ এবং ছোট যমুনা নদী নওগাঁর কয়েকটি স্থানে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে এসব এলাকার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা অববাহিকার নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিন ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আরও বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট জেলার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।









