যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একান্ত বৈঠককে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হয়েছে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিন্ন লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, “এই বৈঠক পূর্ণ অংশীদারত্ব, দ্বিপক্ষীয় সমর্থন এবং ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—সেই অভিন্ন লক্ষ্য নিশ্চিত করার বোঝাপড়ারই প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে ইসরাইলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগও তৈরি হয়েছে। তবে আলোচনায় কী ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগে হোয়াইট হাউসও এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ”। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীরা। গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। তারা গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গাজা যুদ্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠককে আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি








