লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মাত্র আট বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের হাফেজ হয়েছে আব্দুর রহমান নামে এক শিশু। বিস্ময়করভাবে মাত্র এক বছরের মধ্যেই সে ৩০ পারা কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেছে। তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
আব্দুর রহমান কমলনগর উপজেলার করুনানগর এলাকার কৃষক আবুল কালামের ছেলে। সে হাজিরহাট আল ইহদা ইসলামিক ইনস্টিটিউটের হিফজ বিভাগের ছাত্র।
আব্দুর রহমান জানায়, তার বাবার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে কুরআনের হাফেজ বানানো। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই তাকে মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরিবারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সে মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করেছে।
সে বলে, “বাবার স্বপ্ন ছিল আমি হাফেজ হব। তাই মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছেন। শিক্ষকরাও আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি একজন বড় আলেম হতে পারি।”
পরিবার ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আব্দুর রহমান হাজিরহাট আল ইহদা ইসলামিক ইনস্টিটিউটের হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়। এর আগে অন্য একটি মাদরাসায় ছয় মাস অধ্যয়ন করে ১৫ পারা কুরআন মুখস্থ করেছিল। পরে আল ইহদা ইসলামিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে বাকি ১৫ পারাও মুখস্থ সম্পন্ন করে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সে পূর্ণাঙ্গ হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
আব্দুর রহমানের বাবা আবুল কালাম বলেন, “আমার দুই ছেলে। দুজনকেই হাফেজ বানানোর স্বপ্ন ছিল। বড় ছেলে সাধারণ শিক্ষায় পড়াশোনা করছে। তবে ছোট ছেলে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, সে যেন একজন ভালো মানুষ ও বড় আলেম হতে পারে।”
হাজিরহাট আল ইহদা ইসলামিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ফারহান সাকিব জায়েদ বলেন, “মাত্র আট বছর বয়সে আব্দুর রহমান কুরআনের হাফেজ হয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। সে নম্র, ভদ্র ও পরিশ্রমী একজন শিক্ষার্থী। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি এবং দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে সারাজীবন কুরআনের আলোকে জীবন পরিচালনার তৌফিক দান করেন।”
জেএইচএম/কান্ট্রিবিডি








